হাসান মোর্শেদ, দীঘিনালা:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের জাম্বুড়া পাড়ায় সাপের কামড়ে রেকসন চাকমা (১০) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেকসনকে এক বিষাক্ত সাপ—স্থানীয় চাকমা ভাষায় যাকে ‘কালা জাম্বুড়া’ বলা হয়—কামড়ে দেয়। রেকসন হাজাছড়া জোড়াব্রিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
সাপে কাটার পর পরিবার প্রথমে স্থানীয় ওঝার মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করে। কিন্তু রাত পেরিয়ে সকালে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই করুণ মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়রা রেকসনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ছাবের জানান, শিশুটি মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার ভাষায়, “হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিভেনাম রয়েছে। কিন্তু সাপে কাটার পর যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। অথচ সচেতনতার অভাবে অনেকেই শুরুতে ওঝার চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে, ফলে সময় নষ্ট হয় এবং প্রাণহানির আশঙ্কা বেড়ে যায়।”
পাহাড়ি অঞ্চলে সাপে কাটার মতো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং প্রত্যন্ত এলাকায় সহজলভ্য বিষনিরোধী ইনজেকশনের ব্যবস্থা করা না গেলে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।