নিজস্ব প্রতিনিধি:
সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা পথ আর রূপালী ঝরনার প্রাকৃতিক ক্যানভাসে ঘেরা পাহাড়ের রূপকন্যা খাগড়াছড়িতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবসটি উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলে দিবসটিকে কেন্দ্র করে দিনভর ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যটন খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পের বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে এক সার্বিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিকল্পিত উন্নয়ন, নতুন বিনোদন স্পট তৈরি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর বিষদ আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘খাগড়াছড়ি শুধু প্রকৃতির রূপেই অনন্য নয়, এটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনমেলা। এই জেলার অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম বড় হাতিয়ার হতে পারে পর্যটন শিল্প। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, পর্যটনের অগ্রগতি যেন কোনোভাবেই পাহাড়ের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। আমাদের মূল লক্ষ্য একটি পরিবেশবান্ধব, সুপরিকল্পিত ও আধুনিক পর্যটন নগরী গড়ে তোলা।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পর্যটন সম্ভব নয়। পর্যটকদের আস্থা বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে তথ্যসেবা সহজীকরণ এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে।’
সভায় বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্যসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় বক্তারা পাহাড়ি এই জনপদের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিতে এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে টেকসই পর্যটন খাত গড়ে তোলার যৌথ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।