1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
পানছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কৃষকদের কম্পোস্ট সার প্রস্তুতকরণ প্রশিক্ষণ - আলোকিত খাগড়াছড়ি

পানছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কৃষকদের কম্পোস্ট সার প্রস্তুতকরণ প্রশিক্ষণ

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি:
পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষকদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কম্পোস্ট সার প্রস্তুতকরণ বিষয়ক একটি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন খাগড়াছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পানছড়ি সাবজোন কর্তৃক আয়োজিত এ কর্মশালাটি পানছড়ি উপজেলার চৌধুরীপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষি খামারিরা সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
পানছড়ি উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুণাঙ্করের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় কৃষকদের জৈব সার উৎপাদনের আধুনিক, কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক- এই দুই ধাপে সম্পন্ন করা হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীরা বিষয়টি সহজে বুঝতে এবং বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারেন।
প্রথম ধাপে কম্পোস্ট সার তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ- গবাদি পশুর গোবর, শুকনো পাতা, খড়, ফসলের অবশিষ্টাংশ, রান্নাঘরের সবজি ও ফলের খোসা, কাঠের গুঁড়া, মাটি, পানি, ইউরিয়া ও টিএসপি- সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি উপকরণগুলোর সঠিক অনুপাত ও ব্যবহারের কৌশলও তুলে ধরা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে সরাসরি কম্পোস্ট সার তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া প্রদর্শন করা হয় এবং তাদের হাতে-কলমে অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে করে কৃষকরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হন।
এ কর্মশালায় পানছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উচিৎ মনি চাকমা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং চৌধুরীপাড়া, ইটাখোলা ও পাইলট ফার্ম এলাকার প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ জন নারী-পুরুষ কৃষি খামারি অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, এ উদ্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তারা এখন সহজেই গৃহস্থালির জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে নিজস্ব কম্পোস্ট সার তৈরি করতে পারবেন। এতে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
খাগড়াছড়ি জোন সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে জোনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক, আঙিনা বাগানচাষি এবং বিভিন্ন ফসল উৎপাদনকারী পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ