বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট:
পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। আগামী সপ্তাহ থেকেই দুর্গত এলাকায় বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পাশাপাশি, বন্যা কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমাতে চলতি জুলাই মাসে এনজিওগুলোর ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউস মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। খাগড়াছড়ির বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বন্যায় কর্মহীন ও অতিদরিদ্র হয়ে পড়া মানুষের কষ্ট আমরা বুঝি। সে কারণে আগামী আগস্ট মাস থেকে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল, তা এগিয়ে এনে আগামী সপ্তাহ থেকেই মাঠপর্যায়ে বিতরণ শুরু করা হবে।’ এনজিওগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দূর্ভোগের এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ওপর ঋণের বোঝা চাপানো ঠিক হবে না। সরকার এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুলাই মাসে যেন কোনোভাবেই কিস্তি আদায় করা না হয়।’
এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক, কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিশেষ পুনর্বাসন প্যাকেজ চালু করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, খাগড়াছড়ি বিজিবি সেক্টর কমান্ডার, ডিজিএফআইয়ের ডেট কমান্ডার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ।
সার্কিট হাউসের বৈঠক শেষে একই দিন বিকেলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সরাসরি ছুটে যান খাগড়াছড়ির বন্যাদুর্গত দীঘিনালা উপজেলায়। উপজেলার কবাখালী ও হাচিনসনপুর এলাকার প্লাবিত বিস্তীর্ণ অঞ্চল মোটরসাইকেলে চড়ে সরজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে ১২০০ প্যাকেট জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় দ্রুত পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে তৎপর থাকার নির্দেশ দেন তিনি।