মো. আবদুর রউফ:
পাহাড়ের বুকে প্রকৌশল শিক্ষার দুয়ার উন্মোচন ও শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে যুক্ত হলো এক নতুন ইতিহাস। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ঠাকুরছড়া এলাকায় বিশাল পরিসরে চট্টগ্রাম বিভাগের একমাত্র সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এ মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) প্রকল্পটির বাস্তবায়নে রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে সমাপ্য এই প্রকল্পে থাকছে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ১০ তলাবিশিষ্ট ৩টি একাডেমিক ভবন এবং ৬ তলাবিশিষ্ট ২টি মনোরম ছাত্র-ছাত্রী নিবাস।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপস্থিত সুধীজন ও স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি বলেন, ‘পাহাড়ে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা আমাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার ছিল। এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি চালু হলে পাহাড়ের হাজারো তরুণের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে এবং পাহাড়ি জনপদের শিক্ষাব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার সুষম ও দূরদর্শী উন্নয়নে বিশ্বাসী। খাগড়াছড়িকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছি। প্রস্তাবিত এ বিমানবন্দর বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সাথে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ হবে। পাহাড়ের পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণ ফিরবে, সৃষ্টি হবে হাজারো পাহাড়ি-বাঙালির কর্মসংস্থান, যা গোটা পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেবে।’
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, দুপুরে খাগড়াছড়ি পৌরসভার উদ্যোগে শহরের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতায় আয়োজিত বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানেও অংশ নেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।