খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জহুর আলী এবং জামাল মিয়া সহ অন্যান্যরা বন্যপ্রাণীটির জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসেন। তারা অত্যন্ত সাহসিকতা ও কৌশলের সাথে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। সাপের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য একটি বস্তায় ভরে সেটিকে নিরাপদ স্থানে রাখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগকে খবর দেন।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে জহুর আলী বলেন, ‘ মাছ ধরার জালে সাপ আটকে পড়ার খবর শুনে আমরা সাপটিকে উদ্ধার করি। আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল, প্রাণীটার যেন কোনো ক্ষতি না হয়। সাপ প্রকৃতির অংশ, তাকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। বন বিভাগের লোকজন না আসা পর্যন্ত আমরা সেটিকে ভালভাবে সংরক্ষন করে রেখেছিলাম।’
খবর পেয়ে দীঘিনালার মেরুং রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুরাম চাকমার নির্দেশনায় উপ-বনরক্ষক কর্মকর্তা মো. জাফরুল্লাহর নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জ্ঞানের উপস্থিতিতে গ্রামবাসী শৃঙ্খলার সাথে সাপটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
এলাকাবাসীর এই দায়িত্বশীলতায় মুগ্ধ হয়ে উপ-বনরক্ষক কর্মকর্তা মো. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘পূর্ব হাচিনসনপুর গ্রামের বাসিন্দারা আজ যে সচেতনতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইন প্রয়োগের চেয়েও জনগণের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসাই বেশি কার্যকর। এই এলাকাবাসী আজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক দারুণ বার্তা দিলেন। আমরা তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
এসময় উপস্থিত বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ‘ন্যাচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্স’-এর সংগঠক হৃদয় বড়ুয়া বলেন, ‘সাপটি খাবারের সন্ধানে হয়তো লোকালয়ে চলে এসেছিল। দীঘিনালার মানুষের এই সচেতনতা প্রমাণ করে যে, পাহাড়ের মানুষ কতটা প্রকৃতিপ্রেমী। এই ঘটনা বন্যপ্রাণী রক্ষায় অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।’
বন বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সুস্থ ও প্রাণবন্ত অজগরটিকে দীঘিনালার গভীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে, যেখানে সে তার চেনা পরিবেশে ফিরে যেতে পারবে।