নিজস্ব প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক জটিলতা ও দুর্গম পাহাড়ি যোগাযোগের কারণে জরুরি মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত জীবনহানি রোধে এক অনন্য মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসায় দক্ষ করে তুলতে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়েছে দুই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
রবিবার (২ আগস্ট) সকালে লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে ২২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির দিকনির্দেশনায় এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও মেডিকেল ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলো থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অনেক সময়ই সম্ভব হয় না। এ বাস্তবতায় যেকোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সেবা দিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ২০ জন উদ্যমী তরুণ-তরুণীকে নির্বাচন করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের বিষয়ে রয়েছে- তীব্র রক্তক্ষরণ বন্ধ করা, হাড় ভাঙা ও আঘাতের প্রাথমিক সেবা, সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডোবার ক্ষেত্রে জরুরি ব্যবস্থা, এবং অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রেখে নিরাপদে হাসপাতালে স্থানান্তরের কৌশল।
লক্ষীছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা স্থানীয় পর্যায়ে ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখলে দুর্ঘটনা ও জরুরি মুহূর্তে প্রাণহানি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সেনাবাহিনীর এই দূরদর্শী ও মানবিক উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ি জনপদে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই সেনাপ্রশিক্ষিত তরুণেরা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল।