পরবর্তীতে ৫ জুন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার লেলাং ইউনিয়নের কর্ণফুলী বাজার এলাকায় রবি টাওয়ারে কাজ করার সময় একইভাবে অপহৃত হন আরও দুই টেলিকম কর্মী-মোহাম্মদ সুমন ইসলাম (৩২) ও আব্দুর রহিম (৩৬)। সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে সার্বস কমিউনিকেশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ম্যানেজার সোহেব সুমনের বাবাকে ফোন করে জানান, তার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও, তারপর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত টেলিকম ইউনিয়নের সভাপতি মো. মাকসুদুর রহমান রাকিব বলেন, রবি আজিয়াটা, ইডটকো এবং সার্বস কমিউনিকেশন লিমিটেড বারবার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। অপহরণ বিষয়ে থানা ও প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় নিয়োজিত সহস্রাধিক টেলিকম কর্মী।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসীরা সরাসরি কর্মরত শ্রমিকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে, যা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, বরং জাতীয় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর বড় হুমকি। গত দুই মাসে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামে চারজন কর্মী অপহৃত হয়েছেন, তাদের কেউই আজ পর্যন্ত উদ্ধার হয় নি। পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আশ্বাস ছাড়া আর কিছু মেলেনি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, ইসমাইল মিয়া ও আবে মারমার অপহরণ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। (জিডি নম্বর: ৭৯০, তারিখ: ২০ এপ্রিল ২০২৫, ট্র্যাকিং নম্বর: 16YVBSK)। অপরদিকে, সুমন ও রহিমের বিষয়ে ফটিকছড়ি থানায় করা জিডির নম্বর ২৬৫, তারিখ: ৬ জুন ২০২৫, ট্র্যাকিং নম্বর: N3JPSB। তবে দুই ক্ষেত্রেই থানার ভূমিকা এখন পর্যন্ত নিষ্ক্রীয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি অঞ্চলে টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলে আসছে। পূর্বেও এমন অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে। তবে এবার কোম্পানিগুলো একদিকে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলছে, অন্যদিকে নিজেরাই দায়িত্ব এড়াতে ব্যস্ত। এমন অবস্থায় পরিবার ও সহকর্মীরা দ্বিধা-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
এসময় এ সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হল-
১। অপহৃত চারজন টেলিকম কর্মীকে অবিলম্বে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারের জন্য রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ।
২। অপহরণকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩। পার্বত্য এলাকায় কর্মরত টেলিকম শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪। টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা ও নজরদারি বৃদ্ধি করা।
৫। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও আন্তরিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।