1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
খাগড়াছড়িতে সরকার নির্ধারিত দাম মানছেনা ব্যবসায়ীরা, অভিযান-জরিমানা - আলোকিত খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে সরকার নির্ধারিত দাম মানছেনা ব্যবসায়ীরা, অভিযান-জরিমানা

  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে
মো. আবদুর রউফ:
খাগড়াছড়িতে সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামে পন্য বিক্রি করছেনা ব্যবসায়ীরা। ডিম প্রতি পিস ১৩ টাকা , তেল প্রতি লিটার ১৭৪, আলু কেজি ৪৫ ও পেঁয়াজ কেজি ৭০-৭৫ টাকা করে বিক্রি করছেন তারা। ফলে বাজারে দফায় দফায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করছে ম্যাজিস্ট্রেটরা।
সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম ও মো. আনোয়ার হোসেন এ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় খাগড়াছড়ির নিচের বাজার ও মসজিদ সংলগ্ন পাইকার ও খুচরা দোকানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে ৭ টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ৮ হাজার দুইশত টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে গত শনিবারও অধিক মূল্য রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয় কিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে। তবে অভিযান শেষে আবার আগের মতই বেশি মূল্যে আলু, পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতি পিস ডিম ১২ টাকা, আলু ৩৫ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ ধরনভেদে ৬৫, সোয়াবিন প্রতি লিটার থেকে ৫ টাকা কমিয়ে ১৬৯ টাকা করে মূল্য নির্ধারণ করে দেয় সরকার। ঘোষণার পর থেকেই বাজারে এ দাম কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু ১৮ সেপ্টেম্বরও আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য।
সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সরজমিনে খাগড়াছড়ি পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি পিস ডিম ১৩ টাকা, আলু কেজি ৪৫ টাকা, পেঁয়াজ ৭০-৭৫ টাকা এবং সোয়াবিন তেল ১৭৪ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ভোক্তা শাহ আলম শামীম বলেন, ‘আমি আলু কিনেছি ৪৫ টাকা, পিয়াজ ৭৫ টাকায় এবং ডিমের হালি নিয়েছি ৫২ টাকা। আমরা খুব অভাবে আছি। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে বেশি দামই রাখছে।’
হাজী শফি স্টোরের মো. মামুন বলেন, ‘সরকার আলু-পেঁয়াজের যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সে দামে আমরা কিনতেও পারিনা। আলুর দাম বলছে ৩৫ টাকা, সেই দামে আলু আমরা আনতে পারছিনা। তাহলে কম দামে বেচব কী করে? আমার পেঁয়াজগুলো সব আগের কেনা। এখন কম দামে আমি কিভাবে বিক্রি করব? এজন্য নতুন করে আলু আনছিনা।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অব কনজিউমার রাইটস (সিআরবি)র খাগড়াছড়ি শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেওয়া মূল্য তালিকা ব্যবসায়ীরা মানছেনা। তারা বলছে বেশি দামে কিনা তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখি কোন জিনিসের দাম যখন বাড়ানো হয় তখন তারা কিন্তু পুরনো পন্যসহ সব পন্যের দাম সমানভাবে বাড়িয়ে দেয়। তখন কম রাখেনা। এসব মুনাফালোভী ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠিন অভিযান পরিচালনা করে সরকারি আইন মানতে বাধ্য করতে হবে।’
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত সবাইকে মানতে হবে। সরকার পেঁয়াজ, আলু, ডিম এবং তেলের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি করলে আমরা জরিমানা করব। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি দামে যেখানে বিক্রির অভিযোগ পাব সেখানেই আমরা অভিযান চালাবো। সরকারি সিদ্ধান্ত সবাইকে অবশ্যই মানতে হবে। কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আলু, পেঁয়াজ গুদামজাত করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে এমন প্রমাণ পেলে প্রয়োজনে সে প্রতিষ্ঠান আমরা সিলগালা করে দেব। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান চলবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ