1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
খাগড়াছড়িতে দ্রুত বাড়ছে মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়া, বাড়ছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা - আলোকিত খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে দ্রুত বাড়ছে মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়া, বাড়ছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ১২৪৬ বার পড়া হয়েছে
মো. আবদুর রউফ:
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে। জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রায় পাওয়া যাচ্ছে ম্যালেরিয়া রোগী। এতে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন করে বাড়ছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা।
জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৭-১০ জন করে। এপ্রিল থেকে বাড়তে শুরু করে রোগীর সংখ্যা। শুধু জুন মাসেই রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৬ জনে। পহেলা জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৫ জন।
গত জুন মাসে জেলার পানছড়ি উপজেলায় এক ম্যালেরিয়া রোগী মারা যায়। পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরন করলে ম্যালেরিয়া চিকিৎসা শুরু হলে রোগী মৃত্যুবরণ করেন। জীবানু শনাক্ত করতে দেরি করায় তিনি মারা গেছেন বলে জানান চিকিৎসকরা। জ্বর প্রকট হওয়ায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৪৪ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই শনাক্ত করা হয়েছে ১৭৬ জন ম্যালেরিয়া রোগী। এরমধ্যে একজন রোগী মারা গেলেও চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সবাই সুস্থ রয়েছেন। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি বেসরকারি (এনজিও) ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মীরা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ম্যালেরিয়া রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।
খাগড়াছড়ির সবগুলো উপজেলাতেই ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে দীঘিনালা এবং লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বেশি। দীঘিনালার পার্শ্ববর্তী উপজেলা লংগদু, বাঘাইছড়ি, বাঘাইছড়ির সাজেক, বাঘাইহাট থেকেও দীঘিনালা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ম্যালেরিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে। পরে সেখান থেকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত আসে না। যখন অবস্থা গুরুতর হয়, তখন আসে।
প্রতিবছর বর্ষাকালের শুরুতে দুর্গম এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। নানা প্রতিকূলতায় রোগীরা জরুরি চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের ব্যবস্থা সহজ না হওয়ায় এবং মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগবিচ্ছিন্ন প্রায় এই এলাকাগুলো।
দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে সবচেয়ে বেশি ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে দীঘিনালায়। গত ৬ মাসে ১৭৬জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এখানে। দীঘিনালার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে বাবুছড়া ইউনিয়ন থেকে বেশি ম্যালেরিয়া রোগী আসছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলা, বাঘাইছড়ির সাজেক, বাঘাইহাট থেকেও ম্যালেরিয়া রোগী দীঘিনালা এসে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্ষায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।’
জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির সার্ভিল্যান্স মেডিকেল অফিসার ডা. বিশ্ব জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৩ টা জেলায় ম্যালেরিয়া প্রকোপ থাকলেও ৩ পার্বত্য জেলায় সবচেয়ে বেশি। সারাদেশের ৯০-৯৫ ভাগ রোগীই এই তিন পার্বত্য জেলায়। তাই আমরা যারা পার্বত্য জেলায় বসবাস করি তারা সবাই ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে আছি। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। এর মধ্যে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ সনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য দীর্ঘ স্থায়ী কীটনাশক যুক্ত মশারী বিতরণ এবং ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের উপায় ও এ ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছি।’ পুরো জেলায় আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ‘ম্যালেরিয়া মশাবাহিত একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ। বর্ষা মৌসুমে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। তাই জ্বর হলে অবহেলা করা উচিত নয়। রোগীকে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। ম্যালেরিয়া নির্মূলে আমরা সবাই কাজ করছি। বিশেষ করে বাড়ীর আশেপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি পরিস্কার রাখতে হবে। রাত্রে অবশ্যই মশারীর ব্যবহার করতে হবে। আমাদের সচেতনতাতেও ম্যালেরিয়া কমে আসবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ