1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
মাছের বাজারের সিন্ডিকেটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ, খাগড়াছড়িতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর সিআরবির স্মারকলিপি পেশ - আলোকিত খাগড়াছড়ি

মাছের বাজারের সিন্ডিকেটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ, খাগড়াছড়িতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর সিআরবির স্মারকলিপি পেশ

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে
​মো. সাবির খান, খাগড়াছড়ি:
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশের বাজারে সব ধরনের মাছের যৌক্তিক উৎপাদন ও আহরণ মূল্য নির্ধারণ এবং সর্বস্তরে ন্যায্য খুচরা বিক্রয়মূল্য বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন-কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি)।
​রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত-এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন সিআরবি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার নেতারা। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিনোদন ত্রিপুরা ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফসহ অন্যান্যরা।
​স্মারকলিপিতে দেশের মৎস্য খাতের বিদ্যমান অস্থিতিশীলতা ও ভোক্তাদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও দেশে সরকারিভাবে মাছের দাম নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে ওঠেনি। অথচ এ খাতের গবেষণা ও উন্নয়নের দায়িত্বে মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এবং মৎস্য প্রশিক্ষণ একাডেমির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।
​সিআরবি নেতারা জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইলিশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণের সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এর সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট। ফলে একদিকে প্রান্তিক মৎস্য চাষি ও জেলেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের চড়া দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে দেশে ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। এছাড়া চাষের মাছ ও নদী-সামুদ্রিক মাছের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
​বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সিআরবি-র পক্ষ থেকে ৫ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। দাবীগুলো হলো- ১. জেলা ও প্রজাতিভিত্তিক মাছের যৌক্তিক ‘ফার্ম গেট’ বা ‘ল্যান্ডিং প্রাইজ’ এবং খুচরা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে নিয়মিত প্রকাশ করা। ২. ইলিশসহ নদী ও সামুদ্রিক মাছের আহরণ, বাজারজাতকরণ ও মূল্য ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিমূলক নীতিমালা প্রণয়ন। ৩. সরকারি ওয়েবসাইট, গণমাধ্যম ও প্রতিটি খুচরা বাজারে নির্ধারিত মূল্য তালিকা দৃশ্যমান রাখা। ৪. অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের মুনাফালোভী প্রবণতা বন্ধে নিয়মিত সমন্বিত বাজার মনিটরিং ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া। ৫. মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে একটি গতিশীল ‘জাতীয় মৎস্য মূল্য পর্যবেক্ষণ ও মূল্য-তথ্য ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ