মহালছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম নরেন্দ্র কার্বারী পাড়ায় নিকা ত্রিপুরা (৩০) নামে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, ভারি বৃষ্টির রাতে ওই নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে নগদ ৭ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মহালছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে নিহতের আট বছরের কন্যাসন্তান শিখা ত্রিপুরা পার্শ্ববর্তী গ্রামে নানীর বাড়িতে ছিল। পরদিন সকালে সে বাড়ি ফিরে মাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ পায়নি। পরবর্তীতে সে ভয় পেয়ে বিদ্যালয়ে চলে গেলে বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে আসে এবং পুরো এলাকায় জানাজানি হয়।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কার্বারী (গ্রামপ্রধান) থোয়াইং অংগ্য মারমা জানান, পার্শ্ববর্তী থলিপাড়া গ্রামের খোকন ত্রিপুরা নামের এক মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে নিহত নারীর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছিল। ঘটনার দিন ভোরে অভিযুক্ত খোকন নিহত নারীর ঘরে ঢুকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের ডায়াল করা কল হিস্ট্রি মুছে ফেলার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তোপের মুখে সে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার রাতে পাহাড়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ওই নারীকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করে। একই সঙ্গে ঘরে থাকা ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭ লাখ টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম জানান, ‘পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঘটনাস্থল থেকে দুটি মুঠোফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।’
পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় এমন নির্মম ঘটনার পর স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।